সার চুরির ঘটনা নিয়ে ফের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মোল্লার হাট বাজারে কয়েকদিন আগে ৩০ বস্তা সরকারি সার আটক করে স্থানীয়রা। ওই সার আটকের পরে স্থানীয়দের সঙ্গে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণে আনলেও এ ঘটনার এক সপ্তাহ না পেরুতেই সার চুরির বিষয় নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় একজন গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হলেও বর্তমানে এলাকার অবস্থা থমথমে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ।

রোববার (৩০ জুন) সকালে সখিপুর থানার চরকুমারিয়া ইউনিয়নের মোল্লার বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। এর আগে মোল্লার বাজার থেকেই সারগুলো আটক করে স্থানীয়রা।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মোল্লার হাট বাজারে গত ২৪ জুন সোমবার) বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) ৩০ বস্তা সার বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হলে বাজার থেকে সারগুলো আটক করে স্থানীয়রা। সার আটক করার পরে চরকুমারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য দানু মিয়া হাওলাদার সারগুলো ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয়দের তোপের মুখে তা আর সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সখিপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদ্য সাবেক ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর মোল্লা এসে উত্তেজিত জনতাকে ধমক দিয়ে সার নিয়ে যেতে চাইলে তিনিও তোপের মুখে পড়লে তার সমর্থকরা তাকে নিরাপদে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর উপজেলা প্রশাসন সারগুলো জব্দ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাহাবুদ্দিন ও উপ-সহকারী পাট কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে সদস্য করে দুই সদস্য বিশিষ্ট এক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ওই তদন্ত কমিটি এখনো রিপোর্ট দেয়নি বলে জানিয়েছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাজিবুল ইসলাম। কিন্তু সার আটক করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্র করে সকালে মোল্লার হাট বাজারে ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর মোল্লা ও চরকুমারিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়জুল মোল্লার সমর্থকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে হুময়ুন কবীর মোল্লার সমর্থক ও চরকুমারিয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য শাহজালাল বেপারী নামে মাথা ফেটে গুরুতর আহত হোন। এছাড়াও শাওনসহ প্রায় ৮ থেকে ১০ আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে শাহজালাল বেপারীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ফায়জুল মোল্লা বলেন, আমি বাড়িতে ছিলাম। শুনেছি বাজারে মারামারি হয়েছে। সার নিয়ে কয়েকদিন আগে কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

সখিপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর মোল্লা বলেন, সকালে বিএনপির কিছু লোক আমাদের ওপর হামলা করে। এখানে পুলিশ এসেছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাসুদুর রহমান বলেন, সকালে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। শুনেছি একজন আহত হয়েছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত

Posted on