ভেদরগঞ্জ নির্বাচন অফিসে দালাল ছাড়া কাজ হয় না

অনলাইন (কালবেলা)//    শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে দালাল ও টাকা ছাড়া সেবা পাওয়া যায় না। নতুন ভোটার হওয়া, জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল সংশোধন ও ভোটার স্থানান্তর-সব কাজেই লাগে টাকা। তবে দালাল শাহপরানের মাধ্যমে গেলে মুহূর্তেই সব সমস্যার সমাধান। একটি ভুল সংশোধন করতে দালাল শাহপরানের হাতে তুলে দিতে হয় ৫-১০-কিংবা ২০ হাজার টাকা-এমন অভিযোগ করেন একাধিক সেবা নিতে আসা মানুষ।

শাহপরান নিজেকে নির্বাচন কমিশনার মো: আনিছুর রহমান এর নাতি পরিচয় দেন। নির্বাচন কমিশনারের সাথে ছবি তুই সেই ছবি দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের ভয় দেখান।

এদিকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার একাধিক বাসিন্দা ও সেবাপ্রার্থীর অভিযোগ, নির্বাচন অফিসে সব ধরনের সেবা লোকজনকে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে নিতে হচ্ছে। এর মধ্যে ভুল সংশোধনে দিতে হয় দুই থেকে ১০ – ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। নতুন ভোটার হতে লাগে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা। টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। দালালদের দ্বারস্থ হলে সব সমস্যার সমাধান।

ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা ওয়াসিম সরদার অভিযোগ করেন, ‘ আমি ভেদরগঞ্জ নির্বাচন অফিসে ভোটার আইডি কার্ডে নাম পরিবর্তন করতে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছিলাম। পরে শাহপরান নামে ওই ব্যক্তি আমাকে কোনো কাগজপত্র লাগবে না বলে ২০ হাজার টাকা চায়। আমি কোনো ঝামেলা হবে না বিধায় ১৮ হাজার টাকায় আইডি কার্ডটি ঠিক করে নেই। পরবর্তীতে পুনরায় আমার বন্ধুর আরও একটি আইডি কার্ড ঠিক করতে শাহপরানকে ২০ হাজার টাকা দেই। কিন্তু তিনি এখন আরও ১০ হাজার টাকা চাচ্ছে। টাকা না দেওয়ায় আমার ফাইলটি বাতিল করে দেয়। এখন টাকা ফেরত চেয়ে তাকে ফোন দিলে তিনি আমাকে ভয় দেখায়। বলে নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান আমার নানা হয়। বেশি বাড়াবাড়ি করলে কোনোদিনও আইডি কার্ড ঠিক করতে পারবি না। পরবর্তীতে আমি বাদি হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

রামভদ্রপুর ইউনিয়নের রনি হাওলাদার নামে এক প্রবাসী বলেন, আমি মালোশিয়া প্রবাসী। প্রবাসে থাকায় ভোটার হতে পারি নি। এখন দেশে এসে নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদনের সব কাগজপত্র নিয়ে নির্বাচন অফিসে গিয়েছিলাম কিন্তু তাকে পাই নি। এর আগে অন্তত ৭-৮ বার গিয়েছি। কখনো নির্বাচন কর্মকর্তা নেই, কখনো বলা হয় আজ নতুন ভোটার হওয়া যাবে না, নানা অজুহাত। পরে গত বুধবার নির্বাচন অফিসে গেলে আমার সব কাগজপত্র ঠিক থাকায় তিনি ফাইল সই করেন। পরবর্তীতে তিনি ২ হাজার টাকা দাবি করেন আমি ৫০০ টাকা দেওয়ায়।নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুর হোসেন খানের সামনে যাওয়া মাত্র ফরম ছুড়ে মারেন। তিনি বলেন, এখন ভোটার হওয়া যাবে না। সামনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ হলে তখন হন। এখন কেন ভোটার হওয়া
যাবে না, জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

এবিষয়ে শাহপরান বলেন, নির্বাচন কমিশনার আনিসুর রহমান আমার নানা সেই সুবাদে আমাদের এলাকার অনেক মানুষ আমাকে আইডি কার্ড সংশোধনের কাজ নিয়ে আসে। আমিও মাঝে মধ্যে অনেকের কার্ড ঠিক করে দেই। তবে টাকা পয়সা নেই না। টাকার বিষয়টি সম্পুর্ন মিথ্যা বানোয়াট।

এবিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান মুঠোফোনে জানান, শাহপরান আমার পরিচিত তবে আমার আপন নাতি নয়। আমার কথা বলে কোথাও কিছু করলে তার ব্যক্তিগত বিষয়। আমি এবিষয়ে কিছুই জানিনা।

এ প্রসঙ্গে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: মঞ্জুর হোসেন খান বলেন, ‘
রনি নামে ওই ভদ্রলোক পুরোপুরি কাগজপত্র না নিয়ে ভোটার হওয়ার জন্য আসে। আমি কাগজপত্র ঠিক না থাকায় তিনি চলে গেছেন। টাকা চাওয়ার বা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। শাহপরানের বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার কথা বলে কে টাকা নেন এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। শাহপরান নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান স্যারের সম্পর্কে নাতি হয়। তাই মাঝে মধ্যে আমার অফিসে এসে বসে। তাছাড়া কেউ সেবা নিতে আসলে তো তাকে তাড়িয়ে দেওয়া যায় না। শাহপরান আমার নাম করে টাকা নিয়েছে। এইরকম আমার কাছেও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত

Posted on